সুনাগরিক সৃষ্টিতে উক্ত বিষয় তথা মূল্যবোধের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
রাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তি যারা রাষ্ট্রপ্রদত্ব অধিকার ভোগ করে এবং রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তাকে নাগরিক বলা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল ব্যক্তি রাষ্ট্রের নাগরিক। কিন্তু সকল নাগরিক কিন্তু সুনগরিক নয়। নাগরিকদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান, যারা বিবেকসম্পন্ন এবং যারা আত্মসংযমী তারাই সুনাগরিক। আর সুনাগরিকের এসব গুণাবলী অর্জনের জন্য মূল্যবোধের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল্যবোধ এমন একটি বিষয় যার মূল্য সমাজ কর্তৃক দেওয়া হয়ে থাকে। আর মূল্যবোধের মূল উপাদান হলো নীতি-নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, শৃঙ্খলাবোধ, সহমর্মিতা, সহনশীলতা প্রভৃতি। এসব উপাদানের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কী করা উচিত, কী করা উচিত নয় ইত্যাদি শিক্ষা লাভ সম্পন্ন হয়।সমাজের ন্যায়বিচার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা তৈরি হয় মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী ও কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে,যা মূল্যবোধের অন্যতম উপাদান। রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা, প্রচলিত আইন মেনে চলা, নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি কর্তব্য একজন সুনাগরিক পালন করে থাকে। এরূপ নাগরিক সচেতনতা আর কর্তব্যবোধ মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়া মূল্যবোধ নাগরিকের মাঝে সহনশীলতা ও সহমর্মিতার মতো গুণাবলী জাগ্রত করে, যা সুনাগরিক হওয়ার জন্য অপরিহার্য। সুতরাং আলোচনা থেকে বোঝা যায়, নাগরিক সৃষ্টিতে মূল্যবোধের বিভিন্ন উপাদানের ভূমিকা অত্যন্ত ব্যাপক।