হ্যাঁ, আমি মনে করি অর্থনৈতিক সাম্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য অতীত জরুরি।
জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র একটি আধুনিক ধারণা। এ জাতীয় রাষ্ট্র জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি নাগরিক জীবনের অন্যান্য চাহিদা যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত সকল চাহিদা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণ সাধন করে একটি উন্নত সুখময় জীবন উপহার দিতে প্রয়াস চালায়। অর্থনৈতিক সাম্য হলো কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের এমন একটি পরিবেশ যেখানে সমযোগ্যতার ও সমঅধিকারের দাবিদারগণের মধ্যে সম্পদের সমান ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। তা সম্ভব না হলে বেকার ভাতা দেওয়া হয়, বয়স্ক ভাতা, চিকিৎসাজনিত ভাতা, আপদকালীন ভাতা, বিধবা ভাতাসহ নানা রকম সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যদি উক্ত রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সাম্য না থাকে তবে সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে বিশাল বৈষম্যের আশঙ্কা থাকে। সে অবস্থায় সধবার বিধবা ভাতা আর বিধবার বঞ্চনা পাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সরকার আপদকালীন অনেক সাহায্য সরবরাহ করে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সাম্য না থাকলে শক্তিধরেরা সুযোগ নিয়ে অধিক সম্পদের মালিক হয় আর দুর্বল জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আরও দুর্বল হতে থাকে।
প্রতিটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ন্যায়বিচার, সাম্য, সমবণ্টন, মানবিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করে। আর সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত না হলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো অবস্থায়ই টেকসই হয় না। অতএব আমি নিঃসন্দেহে একথা বলতে পারি, উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য অর্থাৎ অর্থনৈতিক সাম্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে অতীব জরুরি।