উদ্দীপকে বর্ণিত ধারণা হলো মূল্যবোধ। মূল্যবোধ যে সমাজে যত বেশি প্রচলিত সে সমাজ তত বেশি উন্নত- মন্তব্যটি যথার্থ।মূল্যবোধ ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সততার শিক্ষা দেয়। আমরা দেখতে পাই, সমাজের মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তিগণ সততার সাথে দায়িত্ব পালনে ব্রত থাকেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বহুদল ও মত থাকে। কাজেই অন্যের মতামত সহনশীলতার সাথে গ্রহণ করে নিজের মতামত প্রকাশ করতে হয়। মূল্যবোধ ব্যক্তিকে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সফলতা লাভ করে।উদ্দীপকে বর্ণিত জাপানের এক মন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে সময় বাঁচানোর জন্য দৌড়ে অফিসে প্রবেশ করেন। রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা দেখলে যে কেউ কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলে। শপিংমলে দোকানদার না থাকলেও সকলে ন্যায্যমূল্য দিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে। এসবই উন্নত মূল্যবোধের পরিচায়ক। জাপানের মতো রাষ্ট্র উন্নত হয়েছে শুধু এ ধরনের শক্তিশালী মূল্যবোধের কারণে। এ দেশটির মতো প্রতিটি রাষ্ট্রের এরূপ মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মূল্যবোধ কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে মানসিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে। ফলে তাঁদের মাঝে জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি হয়। মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হলে সে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সততা-শঠতার পার্থক্য বুঝতে পারে। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত হতে অনুপ্রেরণা লাভ করে। মূল্যবোধ সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ একদিকে যেমন অধ্যবসায়ী হয়, অন্যদিকে আত্মবিশ্বাসী হয়। মূল্যবোধের অনুপ্রেরণা মানুষকে তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলে প্রত্যেকে নিজ অধিকার ভোগে সচেতন হয়। সাথে সাথে তার কর্তব্য পালনেও সচেষ্ট থাকে। এরূপ অধিকার ও কর্তব্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি মানবকল্যাণে ব্রত হয় এবং সমাজের উন্নয়নে সচেষ্ট হয়। মূল্যবোধ আইনের ভিত্তি। কারণ মূল্যবোধ বিবর্জিত আইন সমাজে টিকে থাকতে পারে না।আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, উন্নত মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি নিজেদেরকে কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতন থাকে। ফলে তারা সকলেই দেশের উন্নতির স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করে। ফলে দেশ উন্নতির শিখরে আসীন হয়।