'আইনের সাথে উক্ত বিষয়টির তথা স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর'- বক্তব্যটি যথার্থ।আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত ন্যায়ভিত্তিক নিয়মাবলি, যা সকল নাগরিককে মেনে চলতে হয়। অন্যদিকে, স্বাধীনতা হলো ব্যক্তির মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, কর্ম এবং জীবনধারণের নির্ধারিত সীমার মধ্যে নির্বাচনের অধিকার। একটি সুশৃঙ্খল সমাজে স্বাধীনতা উপভোগের জন্য আইন অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।উদ্দীপকের আবহে স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট। এই স্বাধীনতার সাথে আইনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও পারস্পরিক নির্ভরশীল। আইন না থাকলে স্বাধীনতা নিরাপদ নয় এবং স্বাধীনতা না থাকলে আইনের প্রভাবও অপূর্ণ থাকে। আইন ব্যক্তির মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করে - স্বাধীনতার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে। এটি সরকারের ক্ষমতা ও ব্যক্তির অধিকারকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখে, যার ফলে কেউ কারও ওপর অন্যায়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। আইন দুর্বল ও সংখ্যালঘুদের স্বাধীনতা রক্ষা করে এবং সকলকে সমানভাবে স্বাধীনতা উপভোগের সুযোগ দেয়। একই সঙ্গে আইন স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ করে এবং সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাধীনতার ক্ষেত্রকে সুদৃঢ় করে তোলে। আইন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করে স্বাধীনতার বাস্তব রূপায়ণ ঘটায়। একজন নাগরিক যাতে নিজের আত্মবিকাশ ও মর্যাদার সাথে বাঁচতে পারে, তা আইন দ্বারা সুনিশ্চিত হয়।অতএব বলা যায়, আইন ও স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। আইন ছাড়া, স্বাধীনতা নিরাপত্তাহীন, এবং স্বাধীনতা ছাড়া আইন নিষ্প্রাণ। দুটিই মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।