'উদ্দীপকের বিষয়টি তথা সাম্য ছাড়া পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না'- উক্তিটি যথার্থ।স্বাধীনতা ও সাম্য মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দুটি প্রধান স্তম্ভ। প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন সমাজে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। যদি কোনো ব্যক্তি ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা পেশাগত কারণে বৈষম্যের শিকার হয়, তবে তার স্বাধীনতা বাস্তবে কার্যকর হয় না।উদ্দীপকের অনুরূপ একটি রাষ্ট্রে নাগরিকরা বিভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ে বিভক্ত হলেও, যদি তারা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা সমানভাবে ভোগ করে এবং কেউ অন্যের তুলনায় বাড়তি সুবিধা প্রত্যাশা না করে-তাহলে সেখানে একটি সাম্যভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এই পরিবেশেই প্রকৃত স্বাধীনতার চর্চা সম্ভব হয়। কেননা, স্বাধীনতা মানেই শুধু মতপ্রকাশ বা চলাফেরার অধিকার নয়; বরং তার সাথে সম্পৃক্ত হয় সমান সুযোগ, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদার নিশ্চয়তা। যদি রাষ্ট্র নিরপেক্ষ নীতির মাধ্যমে সকল নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সুবিধা দেয়, তবে স্বাধীনতার চর্চা হয় বাধাহীন এবং সর্বজনীন। এই বাস্তবতাই বুঝিয়ে দেয় যে সাম্য না থাকলে স্বাধীনতার ব্যাখ্যা অসম্পূর্ণ থাকে। রাষ্ট্র যদি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বেশি সুবিধা দেয়, তবে অন্যদের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়, যা সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। তাই স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের পরিপূরক-একটির অনুপস্থিতিতে অপরটি অকার্যকর হয়ে পড়ে।সবশেষে বলা যায়, নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা নিছক ধারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। সুতরাং পরিপূর্ণ স্বাধীনতার জন্য সাম্যের উপস্থিতি অপরিহার্য।