সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির তথা মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অপরিহার্য এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নাগরিকদের মধ্যে মূল্যবোধ জাগ্রত হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সংকটে এগিয়ে আসে, দায়িত্ব নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। এভাবে নাগরিকদের সক্রিয় ভূমিকা সুশাসনের বাস্তবায়নে সহায়ক হয়।সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাহায্য করার ঘটনা নাগরিকদের সচেতনতা ও কর্তব্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ ধরনের সহযোগিতা একদিকে মানবিক মূল্যবোধ যেমন- সহমর্মিতা, দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে তুল্লে ধরে, অন্যদিকে এটি সুশাসনের উপাদান অর্থাৎ নাগরিক অংশগ্রহণ, দায়-দায়িত্ব ও স্বচ্ছতার প্রতিফলন ঘটায়। নাগরিকরা যদি রাষ্ট্রীয় দুর্যোগে এমন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে, তবে তা সরকারের দায়িত্বকে সহজতর করে এবং সরকার দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে। এটি সমাজে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়। উপরন্তু, জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে, যা সুশাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ছোট শিশুদের সাহায্য করার ঘটনাও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধ গঠনের ইঙ্গিত বহন করে, যা দীর্ঘমেয়াদে সুশাসনের ভিত্তি মজবুত করে।সার্বিকভাবে বলা যায়, এমন মূল্যবোধভিত্তিক নাগরিক অংশগ্রহণ একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায়নিষ্ঠ এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে সহায়তা করে, যা সুশাসনের মূল লক্ষ্য।