উদ্দীপকের বিষয়টি অর্থাৎ নৈতিকতা সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহায়ক— উক্তিটি যথার্থ।
শুধুমাত্র আইন বা রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানই নাগরিক জীবন নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয় । এছাড়াও মানুষের ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত বোধ বা অনুভূতি দরকার, যেটাকে আমরা নৈতিকতা বলে অভিহিত করি। নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত ধ্যান-ধারণার সমষ্টি যা মানুষকে সুকুমার বৃত্তি অনুশীলনে অনুপ্রাণিত করে। আর এই বিষয়গুলোই সমাজে শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। নৈতিকতা বা ন্যায়- নীতিবোধের ধারণা বা এর প্রতি যে দেশের জনগণের শ্রদ্ধাবোধ বেশি, যারা জীবনের চলার পথে নীতিবোধ দ্বারা পরিচালিত হন, তারা দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতিতে লিপ্ত হন না। আইন অপেক্ষা বিবেক দ্বারা তাঁরা পরিচালিত হন। নীতিবান মানুষ ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত, ন্যায় - অন্যায় ইত্যাদির মানদণ্ডে নিজেরাই চলার চেষ্টা করে।
নৈতিকতার পিছনে সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের সমর্থন বা কর্তৃত্ব থাকে না। কেননা নৈতিকতা বিবেক ও মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। রাষ্ট্র নৈতিক বিধি প্রয়োগ করে না। বিবেকের দংশনই নৈতিকতার বড় রক্ষাকবচ। এটি মানুষকে সৎ ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে। এর দরুণ মানুষ দুস্থ ও বিপদগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন মানুষ সমাজের বিভিন্ন কল্যাণ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে। তারা সমাজের মানুষদের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলে যা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে সহাযতা করে। পরিশেষে বলা যায়, সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে নৈতিকতার ভূমিকা অনস্বীকার্।