একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুশাসন হলো অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ শাসনব্যবস্থা। সুশাসনের আইনগত ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িকতা দূরীকরণ, বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা, জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু সরকার গঠন প্রভৃতি শর্তগুলো পূরণ করতে হয়। সুশাসন নাগরিক অধিকার নিশ্চিত ও অর্থনৈতিক সমতা আনে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার একটি অপরিহার্য শর্ত হলো সাম্য। যেমন- সকলের ভোটাধিকার প্রদান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বাচিত হওয়া প্রভৃতি। গণতন্ত্র মানেই দেশ শাসন ও পরিচালনায় সবার সমানাধিকার। তাই বলা যায়, সমাজে সাম্য গণতন্ত্র আনয়ন করে। সাম্য বজায় থাকলে সমাজে ন্যায়বিবচার প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার সাম্য সমাজের সকল মানুষকে এমন একটি স্থানে এনে দাঁড় করায় যেখানে সকলের জন্য সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা সম্ভব। সাম্য মানুষের ধর্ম-বর্ণ-জাতিভেদ ব্যবধান দূর করে। যার ফলে সমাজের সাম্প্রদায়িতা দূরীভূত হয়ে সমাজ শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠে। কোনো সমাজে সাম্য বিরাজমান থাকলে সেই সমাজ বৈষম্যমুক্ত হয়ে উঠে। কোনো সমাজে সাম্য বিরাজমান থাকলে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয় এবং সমাজে রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। সাম্যই পারে সমাজের শান্তি ও সংহতি রক্ষা করতে। আলোচনা শেষে বলা যায়, সুশাসন বাস্তবায়নের শর্তগুলো সাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাম্যের অবদান অপরিসীম।