“আইন ও স্বাধীনতা পরস্পরের পরিপুরক"- উক্তিটি যথার্থ। আইন ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কেননা স্বাধীনতা আইনের সৃষ্টি এবং আইন, স্বাধীনতার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটায়। রাষ্ট্রের বাইরে যেমন নাগরিকতার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তেমনি আইনের বাইরে স্বাধীনতার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। যদিও সুন্দর, সুষ্ঠ, শান্তিময় জীবনযাপন করতে গিয়ে আইন স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তথাপি স্বাধীনতা তাতে সম্প্রসারিত হয়। আইনের নিয়ন্ত্রণ আছে বলে সবাই স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। পিতা-মাতা যেমন তার সন্তানদের সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে নিরাপদে রাখেন, ঠিক তেমনি আইন সর্বপ্রকার অন্যায় প্রতিহত করে স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। আইন স্বাধীনতাকে খর্ব করে না বরং স্বাধীনতাকে সংরক্ষণ ও প্রসারে সহায়তা করে।
আইনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া যথার্থভাবে স্বাধীনতা ভোগ করা যায় না। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা রক্ষা পায়। স্বাধীনতার প্রধান ভিত্তি ও শর্তই হলো আইন। আইনের অবর্তমানে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত হয়। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। আইন স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। আইন শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতার হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করে। আইন সংযত ও নির্দিষ্ট সীমারেখার গণ্ডিতে সকলকে আবদ্ধ রাখে ।স্বাধীনতাকে রক্ষা করা এবং সকলের নিকট উপভোগ্য করে তোলাই আইনের লক্ষ্য। আইন আছে বলেই স্বাধীনতা ভোগ করা যায়। আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরিধি সম্প্রসারিত হয়। রাষ্ট্র আইনের দ্বারা এমন এক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে যেখানে সুন্দর, সভ্য জীবনযাপনের অনুকূল অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আইন ও স্বাধীনতার মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।