সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও কল্যাণ বজায় রাখার জন্য মানুষ আইন মেনে চলে।
মানুষ কেন আইন মেনে চলে'— এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলে আসছে। হব্স, বেত্থাম, অস্টিন বলেন, “মানুষ আইন মেনে চলে শাস্তির ভয়ে।” রুশো, গ্রিন বলেন, “কতগুলো সুস্পষ্ট যুক্তির কারণেই মানুষ আইন মেনে চলে। আইন ব্যক্তিস্বাধীনতাকে রক্ষা করে এবং পিছনে জনসমর্থন আছে বলেই মানুষ আইন মেনে চলতে আগ্রহী হয়।” মার্কসবাদীদের মতে, “উৎপাদন ব্যবস্থায় যে শ্রেণি প্রভুত্ব করে, সে শ্রেণিই বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনগণকে আইন মানতে বাধ্য করে।” উপরিউক্ত এসব মতবাদ একপেশে। এসব মতবাদের সমন্বয় সাধন করে মেইন বলেন, “শাস্তির ভয় এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি থেকেই মানুষ আইন মেনে চলে । লর্ড ব্রাইস মনে করেন যে, নির্লিপ্ততা, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, শাস্তি এবং যৌক্তিকতার উপলব্ধি'— এই পাঁচটি কারণে মানুষ আইন মেনে চলে । মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার উপভোগ করতে সাহায্য করা, স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা এবং সুন্দর সুশৃঙ্খল সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন গঠনে সাহায্য করে বলেই মানুষ আইন মেনে চলে। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাষ্ট্রীয় জীবন নিশ্চিত করার জন্য আইনের উপস্থিতি অপরিহার্য। এজন্য এরিস্টটল বলেছেন, “মানুষ যখন আইন ও নৈতিকতা থেকে দূরে থাকে, তখন সে নিকৃষ্টতম জীবে পরিণত হয়। আইন মানুষকে সভ্য, সুশৃঙ্খল ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দেয় । তাই মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।