উদ্দীপকে স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। স্বাধীনতার বেশকিছু রক্ষাকবচ রয়েছে।
স্বাধীনতা বলতে অপরের স্বাধীনতা বা অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজ ইচ্ছা মতো কাজ করার অধিকারকে বোঝায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ব্যক্তির ইচ্ছামতো কোনোকিছু করা বা না করাকে বোঝায় যদি উক্ত 'কাজ অন্যের অনুরূপ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত না করে। উদ্দীপকে উল্লেখিত এ বিষয়টি মূলত স্বাধীনতাকেই নির্দেশ করে। স্বাধীনতার কতগুলো রক্ষাকবচ বিদ্যমান।
আইন স্বাধীনতার অন্যতম শর্ত ও সহায়ক শক্তি এবং প্রধান রক্ষাকবচ। আইনবিহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এজন্য জন লক বলেছেন- 'যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না'। স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ হলো সংবিধানে মৌলিক অধিকার সন্নিবেশ। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকলে এগুলো সাংবিধানিক মর্যাদা লাভ করে। সরকার, ব্যক্তি বা ব্যক্তিগোষ্ঠী সেই অধিকার লঙ্ঘন বা হরণ করতে পারে না। ফলে স্বাধীনতা রক্ষিত হয়। গণতন্ত্র স্বাধীনতার অন্যতম রক্ষাকবচ। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় শাসন ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকায় তা জনস্বার্থে পরিচালিত হয়। এই শাসন ব্যবস্থায় জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়া জনগণ অধিকার সচেতন থাকার ফলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ স্বাধীনতা রক্ষার 'অতন্দ্র প্রহরী' হিসেবে কাজ করে। স্বাধীনতার আরেকটি রক্ষাকবচ হলো ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ বলতে সরকারের শাসন ক্ষমতা অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত না করে তা বিভিন্ন পেশাগত গোষ্ঠী বা স্থানীয় সংস্থাগুলোর হাতে অর্পর্ণ করাকে বোঝায়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতা অধিক পরিমাণে সংরক্ষিত হয়। এছাড়াও আইনের অনুশাসন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সদা সতর্ক জনমত ইত্যাদি স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং বলা যায়, স্বাধীনতা যাতে স্বেচ্ছাচারিতায় পরিণত না হয় সেজন্য উল্লিখিত রক্ষাকবচগুলো থাকা দরকার।