উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ রহিমা এবং আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী একই ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত বলে আমি মনে করি না। কেননা রহিমা অর্থনৈতিক এবং আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধন- সম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সব সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া নয়; বরং জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব মানুষের সম্পাদিত কাজের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুবিধা লাভই অর্থনৈতিক সাম্য। উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ দেখা যায়, কারখানা শ্রমিক রহিমাকে পুরুষ শ্রমিকদের সমপরিমাণ কাজ করা সত্ত্বেও পারিশ্রমিক কম দেওয়া হয়। অর্থাৎ দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের কাজ করেও রহিমা পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম মজুরি পাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সাম্যের ধারণার পরিপন্থি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ রহিমা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত |
অন্যদিকে সামাজিক সাম্য বলতে সামাজিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের ক্ষেত্রে সকলের সমান সুযোগ থাকাকে বোঝায়। অর্থাৎ জাতি, ধৰ্ম, বর্ণ, শিক্ষা, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষ সমানভাবে সামাজিক অধিকার ভোগ করলে তাকে সামাজিক সাম্য বলা হয়। উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী শেতাঙ্গদের দ্বারা বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছিল। অর্থাৎ বর্ণের কারণে বা কালো হওয়ার কারণে সামাজিকভাবে সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছিল যা সামাজিক সাম্যের ধারণার পুরোপুরি উল্টো। তাই বলা যায়, আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত রহিমা অর্থনৈতিক এবং আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ তারা একই ধরনের নয়, ভিন্ন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত।