উল্লিখিত উৎস তথা বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের আরও অন্যান্য উৎস রয়েছে”— উক্তিটি যথার্থ ।
আইনের উৎপত্তি বিভিন্ন উৎস থেকে হতে পারে। অধ্যাপক হল্যান্ড আইনের ছয়টি উৎসের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- প্রথা, ধর্ম, বিচারকের রায়, বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, ন্যায়বোধ ও আইনসভা। উদ্দীপকে কেবল বিচারকের রায়ের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এটি ব্যতীত অন্যান্য উৎস থেকে যেভাবে আইনের উৎপত্তি হতে পারে তা নিম্নরূপ—
প্রথা হলো আইনের প্রাচীন উৎস। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে সমাজে যেসব স্বীকৃত রীতিনীতি প্রচলিত ছিল তা পরে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদন লাভ করে আইনে পরিণত হয়। তেমনিভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসনও আইনে পরিণত হতে পারে। যেমন— হিন্দু ও মুসলমানদের বিবাহ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন তাদের স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ থেকে নিয়ে বাংলাদেশের আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রখ্যাত আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনাও আইনের অন্যতম উৎস। কেননা এসব ব্যাখ্যা আদালতে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে গৃহীত হয়। আবার, কোনো মামলার বিবাদ মীমাংসার ক্ষেত্রে যদি কোনো আইন না থাকে তবে বিচারকগণ নিজের ন্যায়বোধ থেকে যে সিদ্ধান্ত দেন তা থেকে নতুন আইন তৈরি হতে পারে। এছাড়া প্রত্যেক দেশের আইনসভা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য জনমত ও সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিচারকের রায় ছাড়াও আইনের বহুবিধ উৎস রয়েছে।