উদ্দীপকে 'ক' এবং 'খ'- এর বক্তব্য প্রতিফলিত ধারণা দেয় গভীরভাবে সম্পর্কিত। 'ক'- এর বক্তব্যে প্রতিফলিত ধারণা হলো আইন । অন্যদিকে, 'খ' -এর বক্তব্যে প্রতিফলিত বিষয়টির বৈশিষ্ট্য থেকে এটি নির্ণিত হয় যে, উক্ত ধারণাটি হল স্বাধীনতা। কেননা, ইচ্ছামতো অথচ অপরের ক্ষতি না করে কিছু করা বা না করার অধিকার কে স্বাধীনতা বলা হয়। স্বাধীনতা ও আইনের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আইন ও স্বাধীনতা পরস্পরের পরিপূরক। আদর্শবাদী দার্শনিক গণ আইনকে স্বাধীনতার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেননা, সমাজ ব্যবস্থায় আইন না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করত ও সামাজিক অন্যায় অবিচার বেড়ে যেত। আইন স্বাধীনতাকে যথাযথভাবে উপভোগের সুযোগ সৃষ্টি করে। এজন্যই জন লক বলেন, যেখানে আইন থাকে না, সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আবার স্বাধীনতাকে যদি ব্যক্তিত্ব বিকাশের সহায়ক বলা হয়, তাহলে আইন হল তার নিশ্চয়ায়ক। আইনের মাধ্যমেই সমাজের শান্তি -শৃঙ্খলা ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। তাই আইন হলো স্বাধীনতার অভিভাবক ও পরিচালক। স্বাধীনতা যখন অন্যের ক্ষতি না করে নিজের অধিকার ভোগকে নির্দেশ করে,সেখানে আইন সেই অধিকারের সীমা নির্ধারণ করে। যদিও কিছু আইন স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে তথাপি আইন ছাড়া স্বাধীনতা অসম্ভব ও অবাস্তব। সুতরাং, আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কিত।