E চিহ্নিত স্থানের উপযুক্ত বিষয়টি হলো আইন। কেননা, আইন রাষ্ট্র দ্বারা বলবৎকৃত, সমাজ দ্বারা স্বীকৃত এবং মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আইনের তিনটি উৎস হলো- প্রথা, ধর্ম এবং আইনসভা। এক্ষেত্রে প্রথা আইনের সর্বাপেক্ষা প্রাচীনতম উৎস। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে সমাজের মানুষ প্রথা মেনে চলত। এমনকি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির কোনো বিবাদ দেখা দিলে প্রথার মাধ্যমে তা মীমাংসা করা হতো। রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর এসব প্রথা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃতি ও অনুমোদন লাভ করে আইনে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গ্রেট ব্রিটেনের অধিকাংশ আইন প্রথার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এসব আইনের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন থাকায় আইনসভা এসব প্রথাভিত্তিক আইনকে বাতিল করতে পারে না।
এক্ষেত্রে ধর্মকে আইনের প্রাচীন উৎস বলা হয়। মধ্যযুগে ধর্মকে কেন্দ্র করে আইন প্রণীত হতো। কারণ একজন শাসকের হাতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতা থাকলে সে ব্যক্তি রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় অনুশাসন প্রয়োগ করে। পরবর্তীতে সেসব ধর্মীয় অনুশাসন আইনে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায়, হিন্দু ও মুসলমানদের বিবাহ, সামাজিক সম্পর্ক ও' উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনগুলো হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
আবার, বর্তমান যুগে আইনসভাকে আইনের সর্বপ্রধান উৎস বলা হয়। আইনসভা যুগের চাহিদা অনুযায়ী মানুষের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং পুরাতন আইন সংশোধন কিংবা বাতিল করে। এ প্রসঙ্গে গিলক্রিস্ট বলেন, আইনের অন্য উৎসগুলোর মধ্যে আইনসভা আইনের সর্বপ্রধান উৎস হিসেবে স্থান দখল করেছে।
এভাবেই এসব উৎস থেকে আইন সৃষ্টি হয়ে সুষ্ঠু ও কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণে অবদান রাখছে।