সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুশাসনের ভিত্তিস্বরূপ। কারণ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সর্বাধিক জনকল্যাণমুখী এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সরকারব্যবস্থা পরিচালিত হয়। গণতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী। কারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠী সমাজ, সরকার সার্বিকভাবে রাষ্ট্রে সুশাসন ও তার বাস্তবায়ন ঘটায়। উদ্দীপকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের গুরুত্ব সর্বাধিক। কারণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যদি রাষ্ট্রের সকল স্তরে বাস্তবায়িত হয় তবে সুশাসন এমনিতেই প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা ব্যতীত সুশাসনের আশা করাও ভুল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই আইনের নিকট সমান মর্যাদা লাভ করে। শাসক তার ইচ্ছা অনুযায়ী আইন ব্যবহার করতে পারে না, বরং আইন তার আপন গতিতে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে সরকারের কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ থাকে, অপরাধীর আত্মসমর্পণের সুযোগ থাকে। অর্থাৎ আইনের শাসন সমাজ বা রাষ্ট্রের মন্দ শাসনকে প্রতিহত করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নাগরিক অধিকারের মর্যাদা দান করে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে নাগরিককে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়, কারণ গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সরকার। এজন্য গণতান্ত্রিক সরকার নাগরিকের কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সুশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য নাগরিকের কল্যাণ সাধন তাই যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজেসুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান শর্ত হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা। আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, একটি রাষ্ট্রে সুশাসন তখনই প্রতিষ্ঠা লাভ করে যখন সেখানে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা লাভ করে, ন্যায়বিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হয়। আর এসব কিছু প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করা।