উদ্দীপকের 'ক' কলামের বিষয়টি মূলত স্বাধীনতাকে নির্দেশ করে। কেননা স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো নিয়ন্ত্রিত স্বাধীনতা। অপরের অধিকার বা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছামতো কাজ করা বা উপভোগ করার অধিকারকেই বলা হয় স্বাধীনতা। আর স্বাধীনতা হলো মানুষের জন্মগত অধিকার। যা উদ্দীপকের কলাম 'ক'-এর সাথে সাদৃশ্যময়। স্বাধীনতা রক্ষার উপায়কে বলা হয়, স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। তাই স্বাধীনতা রক্ষার রক্ষাকবচগুলোর গুরুত্ব সর্বাধিক।গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসনব্যবস্থা। এটি স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান ও প্রথম রক্ষাকবচ। কারণ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণ সকল ক্ষমতার অধিকারী হয়। আইন ও আইনের শাসন স্বাধীনতার অন্যতম একটি রক্ষাকবচ। আইন সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখে এবং স্বাধীনতাকে রক্ষা করে। যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। আবার রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে, স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। আইন ও শাসন বিভাগের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত হয়ে বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, তবে সরকারের স্বেচ্ছাচার হতে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা পাবে। স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রয়োজন। কেননা' সংবাদপত্রের মাধ্যমে নাগরিকগণ নিজস্ব মতামত প্রকাশের দ্বারা ব্যক্তিস্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে। সদাজাগ্রত জনমত স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ। সদাজাগ্রত বলতে নাগরিকদের সতর্ক ও সজাগ দৃষ্টিকে বোঝায়। সামাজিক ন্যায়বিচার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত হয়। তাই সামাজিক ন্যায়বিচার গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অন্যতম রক্ষাকবচ হিসেবে স্বীকৃত। সংবিধানে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ 'হিসেবে কাজ করে। কারণ মৌলিক অধিকার খর্ব হলে নাগরিকগণ আদালতের আশ্রয় নিতে পারে এবং অধিকার রক্ষা পায়। জনগণের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য অর্থনৈতিক সাম্য প্রয়োজন। কেননা নাগরিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সংরক্ষণের রক্ষাকবচ হচ্ছে অর্থনৈতিক সাম্য। এছাড়াও ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণ নীতি, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ, প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা ইত্যাদিও স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।