উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতা অর্থাৎ 'অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে'- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বাধীনতা বলতে আমরা সেই অবস্থাকে বোঝাতে পারি, যা বিভিন্ন অনুকূল সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণমূলক কার্যাবলির মাধ্যমে ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। স্বাধীনতার বেশ কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ধরন হলো রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের বর্ণনায় নাগরিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে মানুষের সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহের জন্য এ স্বাধীনতা থাকা অপরিহার্য। আর রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতাকে বলা হয় রাজনৈতিক স্বাধীনতা। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত মানুষের, ব্যক্তিত্বের বিকাশ সম্ভব নয়। আবার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে। কেননা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে মানুষ রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগে আনন্দ পায় না। আবার অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা না থাকলে ভোটদান, মতামত প্রকাশ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া কিংবা সরকারি চাকরি লাভের মতো রাজনৈতিক অধিকারগুলো অর্থহীন হয়ে পড়ে। এ কারণেই বলা হয় যে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, 'ক্ষুধার রাজ্যে কবিতা গদ্যময়' অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। কারণ, এক্ষেত্রে স্বাধীনতার কোনো মূল্য থাকে না।