উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো স্বাধীনতা যার সাথে সাম্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।সাম্য বলতে মানুষের পূর্ণতাপ্রাপ্তি এবং সমান অধিকার সংরক্ষণ করাকে বোঝায়। আর স্বাধীনতা হলো অন্যের সমস্যা সৃষ্টি না করে নিজের অধিকার ভোগ করার ক্ষমতা। এরা একে অপরের সহযোগী ও সম্পূরক। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' জনগোষ্ঠী বিদেশি শক্তি দ্বারা নিপীড়িত হওয়ায় তাদের মাঝে স্বাতন্ত্র্যবোধ ও ঐক্যবোধের জন্ম হয় এবং তারা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়। স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্ক্ষাই তাদেরকে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র লাভ করতে সহায়তা করে। এর সাথে সাম্যের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা কার্যকর হতে পারে না। এরা একে অন্যের পরিপূরক। একটি রাষ্ট্রে যত সাম্য থাকবে, সে রাষ্ট্রে তত স্বাধীনতা থাকবে। তাই এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যেমন সাম্যের দরকার তেমনি স্বাধীনতারও দরকার হয়। এরা উভয়ই গণতন্ত্রের ভিত্তি। এদের সহাবস্থান জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণের নিশ্চয়তা দেয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও সাম্য অখণ্ড ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। যে সমাজে স্বাধীনতা থাকে না, সে সমাজে সাম্য থাকে না। একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটি অর্থহীন হয়ে পড়ে। সাম্য ব্যতীত স্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না। সাম্য না থাকলে স্বাধীনতা নামসর্বম্বে পরিণত হয়।উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, সাম্য ও স্বাধীনতা পরস্পরের পরিপূরক ও সহায়ক। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক কিংবা জাতীয় স্বাধীনতা না থাকলে সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন করা যায় না। আবার সাম্যের নিশ্চয়তা না থাকলে প্রকৃত প্রস্তাবে কোনো স্বাধীনতা থাকে না। তাই এরা একটি অন্যটি ছাড়া অচল।