উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ব্যবস্থা হলো ই-গভর্নেন্স। উন্নয়নশীল দেশসমূহে ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে যেসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে সেগুলো ই-গভর্নেন্স এর সুবিধা। এসব সুবিধা বাস্তবায়নে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ই- গভর্নেন্স-এর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিম্নরূপ—
ই-গভর্নেন্সবান্ধব অবকাঠামো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা ও স্বল্পমূল্যে বিদ্যুতের ব্যবহার না করতে পারা ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের বিশেষ বাধা। উন্নয়নশীল দেশে ইন্টারনেট সেবার সর্বজনীনতা, উচ্চগতি ও স্বল্পমূল্য বিদ্যমান না থাকা ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নের আরেকটি অন্তরায়। ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার জন্য ইংরেজি জ্ঞানসম্পন্ন ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশসমূহে বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় দক্ষ ও পর্যাপ্ত তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদের অভাব দেখা যায়। ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠার আরেকটি বাধা হলো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাব। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি থাকায় অনেক মানুষ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়। ই-গভর্নন্সে প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ থাকা অপরিহার্য। কিন্তু অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় সরকার ও জনগণের আগ্রহ ও সক্ষমতা উভয়ই কমিয়ে দেয়। এছাড়া ই-গভর্নেন্স সম্পর্কে ইতিবাচক প্রচারণার যেমন অপ্রতুলতা রয়েছে, তেমনি জনগণও সুশাসন এবং ই-গভর্নেন্স বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নয়।
পরিশেষে বলা যায়, ই-গভর্নেন্স একটি যুগোপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণের সম্পর্ক দৃঢ় হয়। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে উন্নয়নশীল দেশসমূহ ই-গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় পিছিয়ে আছে। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সরকার ও জনগণের সদিচ্ছা থাকা আবশ্যক। তাহলে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন অনেকাংশে সহজ হবে।