উদ্দীপকে ই-গভর্নেন্স বা ইলেকট্রনিক শাসন তথা প্রযুক্তিনির্ভরশাসনব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।ই-গভর্নেন্স (E-Governance) এর পূর্ণরূপ হলো ইলেকট্রনিক গভর্নেন্স (Electronic Governance)। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা সহজে জনগণের নিকট পৌঁছানোকে ই-গভর্নেন্স বলে। যেমন: ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা, বিভিন্ন চাকরির আবেদন করা ইত্যাদি।উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগণ এখন খুব সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরকারি তথ্য ও সেবা পাচ্ছে। ঘরে বসে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল প্রদান করতে পারছে; যা ই-গভর্নেন্স এর উপস্থিতিকে নির্দেশ করছে। এশাসনব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো: প্রথমত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।দ্বিতীয়ত, সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দ্রুত জনগণের নিকট পৌঁছে দেয়া।চতুর্থত, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।পঞ্চমত, প্রশাসনের দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো।ষষ্ঠত, অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করা।সপ্তমত, সরকারের তিনটি অঙ্গ তথা আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয় সাধন করা।অষ্টমত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নতকরা। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই ই-গভর্নেন্স এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।