বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স কী কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে ই-গভর্ন্যান্সের প্রতিবন্ধকতা উদ্দীপকে বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান প্রতিবন্ধকতার কথা ফুটে উঠেছে। এগুলো হলো: ১. শাসকবর্গের দ্বারা ব্যবস্থার অপব্যবহারের ঝুঁকি। ২. প্রযুক্তির কারণে বেকারত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কা। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. শাসকবর্গের স্বার্থে ব্যবহার: ই-গভর্ন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য হলো শাসনব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। কিন্তু উদ্দীপকের বক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শাসক শ্রেণি বা ক্ষমতাশালীরা এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে নিজেদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে। তারা প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে জনগণের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে, তথ্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে অথবা নিজেদের পছন্দের লোকদের সুবিধা দিয়ে দুর্নীতি করতে পারে। এর ফলে, ই-গভর্ন্যান্সের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং এটি জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে শাসকবর্গের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে, যা সুশাসনের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ২. বেকারত্ব বৃদ্ধি: ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের ফলে অনেক সরকারি কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় (automated) হয়ে যায়। সনাতন পদ্ধতিতে যে কাজগুলো সম্পন্ন করতে অনেক লোকবলের প্রয়োজন হতো, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেই কাজগুলো অল্প সময়ে এবং কম লোক দিয়েই করা সম্ভব হয়। এর ফলে, বিশেষ করে কায়িক শ্রম বা প্রথাগত দাপ্তরিক কাজে নিযুক্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। যদি এই কর্মীদের নতুন প্রযুক্তির জন্য প্রশিক্ষিত করে বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি করা না যায়, তবে প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের কারণে দেশে বেকারত্ব বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা একটি বড় সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। সুতরাং, বক্তার মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সামাজিক চ্যালেঞ্জই বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ই-গভর্নেন্স কী কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্…
উদ্দীপক
আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর