উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে সাম্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ স্বাধীনতার সাথে সাম্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। অপরের অধিকার বা স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে স্বীয় ইচ্ছেমতো কাজ করার অধিকারকেই বলা হয় স্বাধীনতা। স্বাধীনতা হলো সভ্য সমাজের অপরিহার্য উপাদান। আর সাম্য বলতে এমন এক সামাজিক পরিবেশকে বোঝায়, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করে। সাম্য নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন স্বাধীনতা। স্বাধীনতার শর্ত পূরণ না হলে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। আবার স্বাধীনতাকে ভোগ করতে চাইলে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাম্য ও স্বাধীনতা একই সাথে বিরাজ না করলে অধিকার ভোগ করা সম্ভব নয়। স্বাধীনতা ও সাম্য একে অপরের পরিপূরক ও সহায়ক। স্বাধীনতা ও সাম্য একই সাথে বৃহত্তর পরিসরে ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে সমাজে সাম্য থাকতে হবে। সাম্য না থাকলে সমাজজীবন পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। বস্তুত সাম্য ছাড়া যেমন স্বাধীনতা হয় না, তেমনি স্বাধীনতা ছাড়া সাম্যও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। মূলত স্বাধীনতা ও সাম্য হলো একই মুদ্রার বিপরীত দিক। সাম্যের অনুপস্থিতি থেকেই স্বাধীনতার দাবির জন্ম হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরশাসন এবং বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে 'চ' সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভ করে। শাসকগোষ্ঠী উক্ত সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করলে তারা হয়তোবা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করতো না। তারা এটা করেছে সাম্যের অনুপস্থিতির কারণে। আলোচনা শেষে বলা যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। স্বাধীনতা ও সাম্য পৃথক দুটি বিষয় নয় বরং একই আদর্শের দুটি দিক মাত্র।
HSC Civics 1st Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Civics 1st Paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে সাম্যের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Dhaka · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর