রহিম সাহেবের পরিকল্পনা হলো রাষ্ট্রে ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন । আর উক্ত পরিকল্পনা অর্থাৎ ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়ন হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি মনে করি ।
আধুনিক কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগণের জীবযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন জরুরি। এছাড়া উন্নয়নের জন্য সরকার ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগকে সহজতর করা প্রয়োজন। ই-গভর্নেন্স এক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। ই- গভর্নেন্স এর ফলে সরকারের সাথে নাগরিকের (G2C), নাগরিকের সাথে সরকারের (C2G) এবং সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের (G2B) তথ্যের প্রবাহ ও সম্পর্ক স্থাপন সহজ হবে। আবার জনগণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ, পরিবহন, ডাক, চিকিৎসা, শিক্ষা, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি সরকারি সেবা সহজেই পাবে। তাছাড়া ই-টেন্ডার, ই-লাইসেন্স প্রক্রিয়ার কারণে সরকারি কাজের ঠিকাদারি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে। ফলে জনগণের সার্বিক জীবনমান উন্নত হবে। এসব কারণে সরকার ও নাগরিকের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। এটি সুশাসনের জন্য সহায়ক।
ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়িত হলে সরকারের দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, দুর্নীতি কমবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস পাবে, সময় বাঁচবে, জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ বাড়বে, মানবসম্পদের উন্নয়ন হবে এবং সর্বোপরি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, কোনো রাষ্ট্র ও সমাজে যদি ই-গভর্নেন্সের ব্যাপক প্রচলন নিশ্চিত করা যায় তাহলে সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।