উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে পবিত্র কুরআনের কথা বলা হয়েছে, যা মুসলমানদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ। এখানে মূলত ধর্মকে আইনের উৎস হিসেবে নির্দেশ করা হয়েছে।আইনের সাধারণ অর্থ হলো নিয়ম-কানুন বা বিধি-বিধান। সমাজজীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুস্থ রাষ্ট্রীয় জীবনযাপনের জন্য মানুষকে সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত যেসব বিধি-নিষেধ ও নিয়ম- কানুন মেনে চলতে হয় সেগুলোকে আইন বলে।আইনের অনেকগুলো উৎস রয়েছে। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ ছাড়াও আইনের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলো হলো
প্রথমত, প্রথা আইনের সুপ্রাচীন একটি উৎস। সুদীর্ঘকাল ধরে যেসব আচার-ব্যবহার, রীতি-নীতি ও অভ্যাস সমাজের অধিকাংশ জনগণ কর্তৃক সমর্থিত, স্বীকৃত ও পালিত হয়ে আসছে তাকে প্রথা বলে। গ্রেট ব্রিটেনের সাধারণ আইনগুলো এরূপ প্রথার ভিত্তিতে গড়ে ওঠেছে।দ্বিতীয়ত, বিচারকের রায় আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিচারক যখন দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করতে অসমর্থ হন তখন নিজের বিবেক, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন আইন সৃষ্টি করেন এবং প্রয়োজনবোধে আইনের যথার্থতা বিশ্লেষণ করেন।তৃতীয়ত, প্রখ্যাত আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনাও আইনের অন্যতম উৎস। তাদের ব্যাখ্যা ও আলোচনা অনেক সময় আইনের প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে।চতুর্থত, আধুনিককালে আইনের অন্যতম উৎস হচ্ছে আইন পরিষদ বা আইনসভা। আইনসভা জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করে থাকে।পঞ্চমত, সংবিধান আইনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধানে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। সংবিধান মোতাবেক আইনসভা নতুন আইন তৈরি ও পুরোনো আইন সংশোধন করে।উপর্যুক্ত আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের আইনের অন্যতম উৎস হিসেবে বর্ণিত পবিত্র কুরআন তথা ধর্মগ্রন্থ আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎস। এছাড়াও প্রথা, বিচারকের রায়, আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা, আইনসভা ও সংবিধান প্রভৃতি আইনের উৎস হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।