বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগের ফলে স্বাধীনতার প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করে।আইন স্বাধীনতার পূর্বশর্ত ও প্রধান রক্ষাকবচ। আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীনতাকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার গঠন, পরিচালনা, আইন প্রণয়নে জনগণের অংশগ্রহণ থাকে। এতে জনগণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আইনের অনুশাসন হলো আইনের দৃষ্টিতে সকলে সমান। আইনের শাসন থাকলেই স্বাধীনতা সকলের নিকট সমভাবে উপভোগ্য হয়ে উঠবে।ক্ষমতার স্বতন্ত্রীকরণের ফলে বিভাগীয় স্বাধীনতার পাশাপাশি ব্যক্তি স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণের ফলে কোনো একটি বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটানো সম্ভবপর হয়। এর ফলে আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে। এতে বিভাগীয় স্বাধীনতার সাথে সাথে ব্যক্তি স্বাধীনতাও নিশ্চিত হয়। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হলে সরকারের ক্ষমতা একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের নিকট কেন্দ্রীভূত থাকে না। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা হ্রাস পায়। এছাড়াও স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ ও অটুট রাখার জন্য সংবিধানে মৌলিক অধিকারের সমাবেশ, দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সাম্য, সাংবিধানিক সরকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সুসংগঠিত দল ব্যবস্থা, শোষণমুক্ত সমাজ কাঠামো, সদা জাগ্রত জনমত, অর্থনৈতিক সাম্য প্রভৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।মানুষের জন্মগত অধিকার হলো স্বাধীনতা। এটি সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার পাশপাশি ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের পথকে সুপ্রশস্ত করে। এ স্বাধীনতাকে ভোগ করতে হলে একে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আর উপর্যুক্ত বিষয়গুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে এ স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা সম্ভব।