উদ্দীপকে যে দাবির কথা বলা হয়েছে তা হলো উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব তৃভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন ও স্বাধীন রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাষ্ট্রগুলোকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। পাঠ্যবইয়েও লাহোর প্রস্তাবের অনুরূপ দাবির উল্লেখ পাওয়া যায় এবং এলাহোর প্রস্তাব ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। লাহোর প্রস্তাবের অনেক আগেই ১৯৩০ সালে কবি আল্লামা ইকবাল মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের কথা বলেন। ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় বলে এটি ইতিহাসে লাহোর প্রস্তাব নামে খ্যাত। লাহোর প্রস্তাবের ধারাগুলো নিম্নরূপ- ১. ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভূভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে। ২. এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের সংশ্লিন্ট অঙ্গরাষ্ট্রগুলো স্বায়ত্তশাসিত সার্বভৌম হবে। ৩. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাথে পরামর্শ করে তাদের সব অধিকার ও স্বার্থরক্ষার জন্য সংবিধানে পর্যান্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৪. প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ইত্যাদি বিষয়ে ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত হবে। লাহোর প্রস্তাবের প্রতি কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পন্ডিত জওহরলাল নেহরু এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেন এবং মুসলমানদের জন্য স্বাধীন স্বতন্ত্র আবাসভূমি অসম্ভব বলে উল্লেখ। । করেন। তবে ঐতিহাসিক সত্য এই যে লাহোর প্রস্তাবের পর থেকে মুসলমান সম্প্রদায় নিজস্ব আলাদা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে থাকে। এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের রাজনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক আন্দোলনে এক নতুন ধারার জন্ম হয়। দ্বি-জাতি তত্ত্বের মাধ্যমে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলমানদের আলাদা জাতি হিসেবে চিহ্নিত করতে থাকেন। সে অনুযায়ী মুসলমানদের জন্য ভিন্ন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
এরপর থেকে মুসলিম লীগ এবং জিন্নাহর রাজনীতি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত হতে থাকে; যার শেষ পরিণতি ছিল ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসের দেশ বিভাগ। দ্বি-জাতি তত্ত্বের বাস্তব পরিণতিতে ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ই আগস্ট, ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।