উদ্দীপকের আলোচ্য আকরাম হোসেন হুমায়ুন মুসলিম লীগের নেতা ছিলেন। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
কংগ্রেস মুসলিম সম্প্রদায়কে দলে টানতে ব্যর্থ হয়। কংগ্রেসের কিছু পদক্ষেপ মুসলমানদের স্বার্থের অনুকূলে না থাকায় স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সম্প্রদায়কে কংগ্রেস হতে দূরে থাকতে উপদেশ দেন। তিনি আলীগড় আন্দোলনের মাধ্যমে, নওয়াব আবদুল লতিফ মোহামেডান লিটারারি সোসাইটির মাধ্যমে এবং সৈয়দ আমীর আলী সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে প্রচেষ্টা চালান। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলিমগণ লাভবান হবে এ ছিল সাধারণ ধারণা। তাই প্রায় সকল মুসলিম বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ছিল। অন্যদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ব্রিটেনে উদারপন্থীগণ সরকার গঠন করে এবং ভারতনীতি ঘোষণা করে। ১৯০৬ সালের ২০ জুলাই ভারত সচিব এ সময়ে ভারতবর্ষে প্রতিনিধিশীল শাসনব্যবস্থা সম্প্রসারণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। ১ অক্টোবর ৩৫ জনের একটি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সঙ্গে সাক্ষাত করেন যা 'সিমলা ডেপুটেশন' নামে পরিচিত। তারা লর্ড মিন্টোকে একটি স্মারকলিপি দেয় এবং একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করে। ৩০ ডিসেম্বর ১৯০৬ সালের ঢাকার শাহবাগে মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গভঙ্গের সমর্থক ঢাকার নবাব খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য এবং মুসলমানদের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান, ধর্ম প্রভৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তাব করেন। এরই পটভূমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ আত্মপ্রকাশ করে।