উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এবং ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে উক্ত ঘটনা অর্থাৎ সিপাহি বিদ্রোহ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে ভারত উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়। এর ফলে ভারতবর্ষে কোম্পানি শাসনের অবসান হয়। ইংল্যান্ডের মহারানি ভিক্টোরিয়া সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেন। রানির প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের গভর্নর জেনারেলকে 'ভাইসরয়' নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর মহারানির ঘোষণাবলে ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের রাজ্য বিস্তার নীতি পরিত্যক্ত হয়। রানির ঘোষণায় দেশীয় রাজন্যবর্গের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি রক্ষা, দত্তক পুত্র গ্রহণের স্বীকৃতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং যোগ্যতা অনুসারে ভারতীয়দের সরকারি চাকরিতে নিযুক্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এছাড়া কুখ্যাত স্বত্ববিলোপ নীতি চিরতরে রহিত করা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটিতে সংঘটিত গণঅসন্তোষ ব্যর্থ হলেও পরবর্তী সময়ে সেখানে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হয় এবং ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। ভারতেও সরাসরি ব্রিটিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখানে কোম্পানি আমলের তুলনায় দ্রুত গতিতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটে। এর প্রভাবে ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ হয়। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল 'জাতীয় কংগ্রেস' এবং ১৯০৫ সালে মুসলমানদের রাজনৈতিক দল 'মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। এ দুটি রাজনৈতিক দলের আন্দোলন-সংগ্রামের ফলেই ১৯৪৭ সালে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। পরিশেষে বলা যায়, ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ পরবর্তী সময়ে ভারতে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ এবং রাজনৈতিক দলের উদ্ভব হয়। এসব দলের তৎপরতায় ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। সুতরাং, ভারতবর্ষের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ফলাফল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত ঘটনার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপক
Combined · 2018
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর