উদ্দীপকের সমাজ সংস্কারকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের সমাজ সংস্কারক হাজি শরীয়তউল্লাহর সংস্কার কার্যক্রমের মিল পাওয়া যায়।
হাজি শরীয়তউল্লাহ ১৮১৮ সালের দিকে মক্কা থেকে দেশে ফিরে এসে দেখেন, অধিকাংশ মুসলমানদের বিশ্বাসে কুফর ও শিরক মিশ্রিত রয়েছে। তৎকালীন ভারতীয় মুসলমানরা জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ও সামাজিক উৎসবে বহু অমুসলিম ধর্মজাত আচার-অনুষ্ঠান পালন করছে। অনেকে জঘন্য বিদআত ও শিরকে লিপ্ত। ইসলামি শরিয়ত মতে, মৃত ব্যক্তির কাছে ইহকাল বা পরকালের কোনো কিছুই চাওয়া যাবে না। মৃত ব্যক্তি কোনো পাপ করা বা কোনো সওয়াব হাসিল করা বা ইহজগতের কোনো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখে না। সিজদা পাওয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহপাক। অথচ তৎকালীন মুসলমানরা মৃত ব্যক্তির কাছে কোনো কিছু পাওয়ার আশায় সিজদা করত। গাজী- কালুর প্রশস্তি গাওয়া, পঞ্চপির, পিরবদর, খাজা-খিজিরের দোহাই দেওয়া, ভেলা ভাসানো, জারিগান গাওয়া, জন্মের সময় শটি পালন করা, মহররমে শোক পালন করা ইত্যাদি বিদআত হতে মুসলমানদের রক্ষা করার জন্য তিনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ইসলামের নামে যেসব অনাচার, কুসংস্কার, শিরক ও বিদআত ঢুকেছে, সেগুলোই তিনি দূর করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
পরবর্তীতে তার সংগঠনের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সদস্যদের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন। ফলে ফরায়েজি আন্দোলন একপর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র লাভ করে।