উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিন সাহেবের কর্মকান্ডের সাথে মুসলিম সংস্কারক নওয়াব আব্দুল লতিফের মিল পাওয়া যায়।উদ্দীপকের রমিজ উদ্দিন পিছলে পড়া মুসলমানদের শিক্ষায় চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যা নওয়াব আব্দুল লতিফকে নির্দেশ করে। নওয়াব আবদুল লতিফের কর্মজীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার প্রধান অবদান ছিল শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে। ব্রিটিশ শাসকদের পক্ষপাতদুষ্ট নীতির কারণে মুসলিম সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। মুসলিম সমাজ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়ে অবজ্ঞার পাত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়। মুসলিমগণ ইংরেজ শাসন মেনে নিয়ে নিজেদের উন্নয়নে সচেষ্ট হোক, এটিই ছিল তার প্রধান চিন্তা। চাকরি-বাকরিসহ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের উপযোগী হিসেবে মুসলমানদের গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৬৩ সালে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' গড়ে তোলেন। এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং শিক্ষিত মুসলিম, হিন্দু ও ইংরেজদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করা। শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে মুসলমানদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এবং মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। নবাব আবদুল লতিফের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে ১৮৭৩ সালে হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং মুসলিম ছাত্রদের সর্বপ্রথম একাডেমিকভাবে ইংরেজি শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়। কলকাতার মুসলিম অঞ্চলে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা ও হুগলি কলেজকে সরকারিকরণে তিনি জোর প্রচেষ্টা চালান এবং সফল হন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে কলকাতা মাদ্রাসায় ইঙ্গ-ফারসি বিভাগ খোলা এবং উর্দু ও বাংলা ভাষায় শিক্ষাদানের ব্যবস্থা গৃহীত হয়। তিনি হুগলি মাদ্রাসা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করেন।