উদ্দীপকের মতো ব্রিটিশ সরকারের উক্ত পদক্ষেপ অর্থাৎ বক্তাভকোর প্রতিও জনগণের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র- উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে সঠিক।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় যে, চাকলা রোশনাবাদ পরগনার রাজা মানিক্য বাহাদুর তার অধিভুক্ত পরগনাকে দুইভাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। একদল মানুষ এ বিভক্তিকে সমর্থন করলেও আরেকদল এর তীব্র প্রতিবাদ করে। ঠিক একইভাবে ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধেও বাংলার হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে বিপরীত প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। বাংলার মুসলমানগণ বঙ্গভঙ্গের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তা সাদরে গ্রহণ করেছিল। কেননা, এর মধ্যে তাঁরা নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণ, উন্নতি এবং একটি স্বতন্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভের সম্ভাবনা দেখতে পায়। হিন্দুদের প্রতিবাদ প্রতিরোধের মুখে সরকার যেন বঙ্গভঙ্গ বাতিল না করে সে জন্য মুসলিম লীগসহ নানা সংগঠনের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি উত্থাপন করতে থাকে। অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গের প্রতি হিন্দুসমাজ ও কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র ও নেতিবাচক। পুঁজিপতি, শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, জমিদার স্বার্থরক্ষায় এবং জাতীয় ঐক্যের মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। তাছাড়া হিন্দুরা মনে করেছিলেন, নতুন প্রদেশে মুসলমান জনগণের রাজত্ব হবে, আর বাঙালি হিন্দুরা হয়ে পড়বে সংখ্যালঘু। কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহল থেকে প্রচার করা হয় যে, বঙ্গভঙ্গের অর্থ হচ্ছে 'মাতৃভূমিকে বিভক্ত করা'। এ সকল কারণে বঙ্গভঙ্গের প্রতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে কংগ্রেস একে রদ করার জন্য প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বঙ্গভঙ্গের ফলে মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া ছিল ইতিবাচক। অন্যদিকে হিন্দুরা এর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আন্দোলন শুরু করে। শেষ পর্যন্ত হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।