উদ্দীপকের চরিত্র অর্থাৎ ইনসান আলির সাথে ঊনবিংশ শতকে বাংলার নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামী নেতা তিতুমীরের মিল পাওয়া যায়।
মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর বাল্যকাল থেকেই খুব মেধাবী ছিলেন। তিনি অল্প বয়সে আরবি, ফার্সি ও উর্দুভাষা, শরিয়তের বিভিন্ন বিষয় এবং অঙ্কশাস্ত্রে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেন। মুসলিম সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন এবং ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম পরিচালনা করে তিনি বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রসৈনিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। উদ্দীপকেও এরূপ বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গুণের অধীকারী ইনসান আলি স্বজাতির নানা অসংগতি দেখে ব্যথিত হন। তিনি বিদেশি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে ইনসান আলি প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ইনসান আলি বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েন। তার এ সংগ্রাম ব্যর্থ হলেও তা পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত করে। একইভাবে তিতুমীর মুসলিম সমাজের নানা কুসংস্কার এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে সাধারণ মানুষের দুর্গতি দেখে ব্যথিত হন। সে সময় বাংলার নিরীহ ও দরিদ্র কৃষক সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের শোষণ ওউৎপীড়ন মারাত্মক আকার ধারণ করে। এসব অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে তিতুমীর বাংলার কৃষকদের সংগঠিত করে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ইংরেজ সেনাবাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। কিন্তু ইংরেজদের উন্নত অস্ত্রের আক্রমণে তিতুমীর তার দলের অনেক সৈন্যসহ শহিদ হন। তার এ সংগ্রাম পরবর্তী সময়ে বাংলার মানুষকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রেরণা দেয়। সুতরাং বলা যায়, ইনসান আলির সাথে উনবিংশ শতকের বাংলার নেতা তিতুমীরের মিল রয়েছে।