উত্ত সমিতি অর্থাৎ মোহামেডান লিটারারি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা নওয়াব আবদুল লতিফ ছিলেন বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত -উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
নওয়াব আবদুল লতিফ লক্ষ করেন, মুসলমানরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই অনেক পেছনে পড়ে রয়েছে। বাস্তববাদী বিবেচনা দ্বারা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থতা, ইংরেজি শিক্ষা বর্জন এবং সরকারের সাথে অসহযোগ নীতিই মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার কারণ। তাই তিনি মুসলমানদেরকে ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অনুগত করা ও তাদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষা প্রসারের ব্যবস্থা করেন। জিহাদি আন্দোলন ও ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহের কারণে ইংরেজ শাসকরা মুসলমানদের ওপর বুন্ট ছিল এবং তাদেরকে রাজদ্রোহী মনে করে সর্বদা অবিশ্বাস ও সন্দেহের চোখে দেখত। তিনি খুবই রাজভক্ত ছিলেন। মুসলমানদের জন্য আধুনিক শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি দ্বিবিধ নীতি অবলম্বন করেন। প্রথমত, ব্রিটিশের নতুন শাসন পদ্ধতির সুফল ভোগ করার জন্য মুসলমানদেরকে প্রস্তুত করা; দ্বিতীয়ত, ঔপনিবেশিক সরকারের প্রতি তাদের মধ্যে আনুগত্যের ভাব সৃষ্টি করা। এভাবে মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের সন্দেহ ও অবিশ্বাস দূর করা। নওয়াব আবদুল লতিফ বাংলার মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং শিক্ষিত মুসলমান, হিন্দু ও ইংরেজদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে পরস্পরের কল্যাণ নিশ্চিত করা। মুসলমান সম্প্রদায়কে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের প্রয়োজন অনুধাবন করে ইংরেজি, ফারসি, উর্দু, বাংলা প্রভৃতি ভাষা শিক্ষাদানের ব্যবস্থায় তার প্রচেষ্টা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।
এজন্য নওয়াব আবদুল লতিফকে বাংলার মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।