ব্রিটিশভারত বিভক্ত হয়ে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ে লাহোর প্রস্তাবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রবর্তিত দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এ প্রস্তাব ব্রিটিশ ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। কেননা দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং লাহোর প্রস্তাব ভারতের মুসলমানদের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
লাহোর প্রস্তাব ঘোষণা হওয়ার পর থেকে ভারতবর্ষের মুসলমানরা মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তাদের নিজেদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। ফলে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা এবং কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পায়। এতদিন মুসলিম লীগ ছিল মূলত অভিজাত মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। লাহোর প্রস্তাব ঘোষণার পর এটি সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। প্রথম দিকে ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেস বা ব্রিটিশ সরকার কেউই মুসলমানদের পৃথক রাষ্ট্রের দাবির প্রতি সহানুভূতি দেখায়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক সংঘাতসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে তাদের মনোভাবের পরিবর্তন হয়। দীর্ঘদিনের জটিল শাসনতান্ত্রিক ও সাম্প্রদায়িক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের দাবি মেনে নেয়। ফলে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়। সে বছরের ১৪ আগস্ট 'পাকিস্তান' এবং ১৫ আগস্ট 'ভারত' নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়। উল্লেখ্য যে, মূল লাহোর প্রস্তাবে একটি রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়নি, সেখানে মুসলমানদের জন্য 'স্টেটস' (States) বা একাধিক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অবাঙালি মুসলিম নেতাদের চাপে একটিমাত্র রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠিত হয়। এ কারণে অনেকে মনে করেন যে, লাহোর প্রস্তাবে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বীজও নিহিত ছিল।
উপরের আলোচনার আলোকে বলা যায়, ভারতবর্ষের ইতিহাসে' লাহোর প্রস্তাবের ভূমিকা ছিল সুদূরপ্রসারী।