উদ্দীপকের সাথে হাজি শরীয়ত উল্লাহর ধর্ম সংস্কার আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে হাবিব সাহেব হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে অনেকদিন সেখানে অবস্থান করে সংস্কারকের ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে এসে তিনি নানা ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার ও পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত ছিল, যাদেরকে ইসলামের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি আত্মনিয়োগ করেন। উদ্দীপকের হাবিব সাহেবের মতো, আমার পাঠ্যবইয়ের হাজী শরীয়তউল্লাহ পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য সৌদি আরবে গমন করেন। সেখানে দীর্ঘ দিন অবস্থান করে ইসলামি ভাবধারায় সংস্কার কার্যের প্রতি উৎসাহী হন। তাই শরীয়ত উল্লাহ দেশে ফিরে এসে দেখেন ভারতবর্ষের মুসলমানরা নানান ধরনের অনৈসলামিক রীতি নীতিতে ডুবে আছে। তারা কবর পূজা, পির পূজা, মাজারে সিজদা দেওয়া তাজিয়া প্রথা প্রভৃতি অনৈসলামিক রীতিনীতি অনুশীলন। করছে। মুসলমানদের এরূপ কার্য তাদেরকে ইসলামের মূল কাজ অর্থাৎ ফরজ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। আর এজন্যই শরীয়তউল্লাহ মুসলমানদের ফরজের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করেন। শরীয়তউল্লাহর অসীম সাহস ও বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয়ের ফলে ফরায়েজি আন্দোলন ফরিদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে শরীয়ত উল্লাহর দলে মুসলমানদের ভিড় বাড়তে থাকে। যার ফলে ফরায়েজি আন্দোলন একটি বৃহৎ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, হাবিব সাহেবের মতো শরীয়তউল্লাহ মুসলমানদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেন। তাই উদ্দীপকের সাথে ফরায়েজি আন্দোলনেরই সাদৃশ্য রয়েছে নিঃসন্দেহে।