'খ'-এর চিত্রটি হলো ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের।
১১৭৬ বাংলা বা ১৭৬৯-৭০ খ্রিষ্টাব্দের দুর্ভিক্ষ বাংলার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। দ্বৈতশাসনের ফলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা, ইংরেজদের অর্থলোলুপতা, ভূমি রাজস্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি, কৃষিতে পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, প্রাকৃতিক অনাবৃষ্টি সব কিছু মিলিয়ে ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দের গ্রীষ্মে দুর্ভিক্ষের প্রকোপ সর্বাপেক্ষা বৃদ্ধি পায়। ক্ষুধার তীব্রতায় মানুষের আহাজারিতে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়। না খেয়ে মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। চারদিকে লাশ আর লাশ। ১ টাকায় যেখানে ১ মণ চাল পাওয়া যেত, এ দুর্ভিক্ষের সময় তখন ১ টাকায় ৩ সের পাওয়া ছিল দুর্লভ। কোম্পানির কর্মচারী ও গোমস্তারা অধিক মুনাফা লাভের আশায় খাদ্যদ্রব্য মজুতদারি করে। এর ফলে এ দুর্ভিক্ষ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। মুর্শিদাবাদ হতে কোম্পানির আবাসিক প্রতিনিধি রিচার্ড বেচার ১৭৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জুন এক রিপোর্ট দেন। তিনি লিখেন, "এ এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য, এর বর্ণনা দেওয়া অসম্ভব। দেশের কোনো কোনো অংশে মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় মৃত মানুষ ভক্ষণ করছে। তা গুজব নয়, সত্যি। অনাহারজনিত মৃতের সংখ্যা প্রতি ষোলজনের মধ্যে ছয়জন।" অনাহারী মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকার বিভিন্ন জেলায় লঙ্গরখানা খোলে এবং কিছু অর্থের বরাদ্দ দেয়। কিন্তু তা ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প। এ দুর্ভিক্ষের এক পরোক্ষ ফল ছিল দ্বৈতশাসনের অবসান। ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কর্তৃপক্ষ দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজস্ব শাসনের দায়িত্বভার নিজ হাতে গ্রহণ করে।
এরপর কয়েক বছরের মধ্যে প্রশাসন যন্ত্রের উচ্চপদ হতে সকল দেশীয়দের সরিয়ে দিয়ে ইংরেজদের নিয়োগ দেওয় হয়। এভাবে দ্বৈতশাসনের কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটে।