হ্যাঁ, আমি মনে করি নাইজারবাসীর মতো পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের লোকেরা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। গণন্ত্রকে উপেক্ষা করে স্বৈরতন্ত্র ও সামরিকতন্ত্রের মাধ্যমে তারা দেশ শাসন করতে থাকে। বাঙালি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ওপর দমন-নিপীড়ন চালিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশ অচল করে রাখে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে। পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক সর্বোচ্চ বৈষম্যের শিকার হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের শোষণের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। ফলে পূর্ব পাকিস্তান কখনো অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। প্রাদেশিক সরকারের হাতে মুদ্রাব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক, বিমা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে। ফলে সহজেই সকল অর্থ পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়ে যেত। জন্মলগ্ন থেকে পাকিস্তানে তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গৃহীত হয়। প্রথমটিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১১৩ কোটি ও ৫০০ কোটি রুপি, দ্বিতীয়টিতে বরাদ্দ ছিল ৯৫০ কোটি রুপি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য এবং ১৩৫০ কোটি রুপি পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য। তৃতীয়টিতে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৬% ও ৬৩%। মোট রপ্তানি আয়ে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল ৫৪.৭%। অথচ রপ্তানি আয় বেশি করলেও পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আমদানি ব্যয় ছিল মাত্র ৩১.১%, যা শিল্পকারখানার বেশিরভাগই গড়ে তোলা হয়েছিল পশ্চিম পাকিস্তানে।
তাই বলা যায়, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দ্বারা পূর্ব বাংলার জনগণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।