উদ্দীপকে উল্লিখিত নিয়াজ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে পলাশী যুদ্ধের তাৎপর্য পর্যালোচনা করা হলো- ভারতবর্ষের ইতিহাসে পলাশীর যুদ্ধ একটি বেদনাবহুল খন্ডযুদ্ধ হলেও এ যুদ্ধের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী।
রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের পাশাপাশি বিশেষ করে ইংরেজদের অর্থনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এ যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যেমন- প্রথমত, পলাশী যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার অকালমৃত্যু হলে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য দীর্ঘদিনের জন্য অন্তমিত হয়। দ্বিতীয়ত, মীর জাফরও যুদ্ধের ফলে নামেমাত্র নবাব হলেন। কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা রয়ে গেল ইংরেজদের হাতেই। তৃতীয়ত, ভারতবর্ষে পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজদের সার্বভৌমত্ব স্থাপিত না হলেও তারা নতুন নবাবের কাছ থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা এবং চব্বিশ পরগনার বিশাল জমিদারি লাভ করে। ফলে ইংরেজদের বাংলার রাজনীতিতে যখন তখন হস্তক্ষেপের পথ সুগম হয়। চতুর্থত, ইংরেজরা এ যুদ্ধের ফলে বাংলায় একচেটিয়া বাণিজ্যিক অধিকার লাভ করে। ফলে এদেশীয় বণিকদের সমাধি রচিত হয। পঞ্চমত, ইংরেজরা এ যুদ্ধের ফলে বাংলাসহ দাক্ষিণাত্যে প্রভাব বিস্তার করে ফরাসি বণিকদের বিতাড়িত করে এবং একচেটিয়াভাবে ভারতবর্ষের সম্পদ আহরণ ও ইংল্যান্ডে প্রেরণের ফলে এদেশের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়ে। ষষ্ঠত, এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজদের সামরিক শক্তি ও প্রতিপত্তি সম্পর্কে জনগণের মনে উচ্চ ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানির মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। সপ্তমত, পলাশীর যুদ্ধের পর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে ভারতবর্ষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সাধিত হয়। মূলত ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন তারিখেই ভারতবর্ষের মধ্যযুগ শেষে আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছিল। ঐতিহাসিক আর. সি. মজুমদার এ প্রসঙ্গে বলেন, পলাশীর যুদ্ধ বাংলা তথা সমগ্র ভারতবর্ষে ইংরেজদের বিজয়ের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। কালক্রমে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দের বক্সারের যুদ্ধে তারা নবাব মীর কাশিম ও ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহি বিদ্রোহে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে পরাজিত করে সমগ্র ভারতবর্ষের শাসনভার গ্রহণ করে।""
সর্বোপরি, পলাশীর যুদ্ধের, ফলে ইংরেজ কর্মকর্তারা বিপুল ধনসম্পদের মালিক হয়, যা পরবর্তীতে তাদের ভারতবর্ষব্যাপী বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপনে সহায়ক হয়েছিল।