হ্যাঁ, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতাই ছিল মি. কামরুল ইসলামের পতনের প্রধান করেন।
ইতিহাসের আলোকে যদি আমরা এ ঘটনার ব্যাখ্যা করতে যাই তাহলে দেখব, ১৭৫৭ সালে একই ঘটনা ঘটেছিল বাংলার ইতিহাসে। ১৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে নবাবের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সিংহাসনে বসার পর থেকে তাকে নানামুখী সমস্যা ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়। প্রথম সমস্যা ছিল পরিবারের ঘনিষ্ঠদের ষড়যন্ত্র। বিশেষ করে আলীবর্দী খানের তিন কন্যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ কন্যা ঘসেটি বেগম সিরাজের নবাব হওয়ায় আশাহত হয়ে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। এদের সঙ্গে যোগ দেন ঘসেটি বেগমের দেওয়ান রাজা রাজবল্লভ, পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা সিরাজের খালাতো ভাই শওকত জঙ্কা এবং অন্যরা। কৌশলে নবাব ঘষেটি বেগমকে নজরবন্দী করেন। এ সকল পারিবারিক ষড়যন্ত্র ছাড়াও দেশি-বিদেশি বণিকশ্রেণি, প্রবাবশালী রাজন্যবর্গ ও অভিজাত শ্রেণি, নবাবের সেনাপতি মীর জাফরসহ আরও অনেকে যার যার স্বার্থ উদ্ধারে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার ঘটায়। যার করুণ পরিণতি ছিল ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধ ও বাংলার স্বাধীনতা বিসর্জন।
ইতিহাসের এ ঘটনার আলোকে বিচার করলে দেখা যাবে, উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. কামরুল ইসলামের পতনেরও প্রধান কারণ ছিল। প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা।