উদ্দীপকে উল্লিখিত বণিকদের মধ্যে ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম আগমন করে পর্তুগিজরা।
পর্তুগিজরা সমুদ্রপথে ১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মে ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হয়। বাণিজ্যকে মূলধন করে পর্তুগিজরা ভারতবর্ষে আগমন করলেও তারা সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন দেখে। ১৫১০ খ্রিষ্টাব্দে আল বুকার্ক পর্তুগালের রাজার প্রতিনিধি হিসেবে ভারতে আসেন। মূলত তিনিই ভারতবর্ষে পর্তুগিজ শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। পর্তুগিজরা অবিরত যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থাকত। ধর্ম বিষয়ে তারা অসহিষ্ণু ছিল এবং অধিকৃত অঞ্চলে তারা যে নীতি গ্রহণ করত তা হলো- 'হয় খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ কর অথবা মৃত্যুবরণ কর।' আল বুকার্কের পরবর্তী পর্তুগিজরা অল্পদিনের মধ্যেই ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই (মুম্বাই), লালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করে এবং কুঠিগুলোকে দুর্গে পরিণত করে। ১৫৩৮ খ্রিষ্টাব্দে তারা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁও-এ শুল্ক ঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে। হুগলি নামক স্থানে ১৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দে তারা উপনিবেশ গড়ে তোলে। এরপর তারা উড়িষ্যা এবং বাংলার কিছু অঞ্চলে বসতি সম্প্রসারণ করে। তারা এদেশের জমিদার ও প্রতাপশালী বারো ভূঁইয়াদের সেনাবাহিনীতে চাকরি করত। আবার সুযোগ পেলেই জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার ও লুণ্ঠন করত। অনেক সময় সম্রাট বা নবাবের আইন অমান্য করে বিনা শুল্কে স্বাধীনভাবে ব্যবসায় চালাত। এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে বিদেশের বাজারে দাসদাসীরূপে বিক্রয় করত। পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়েদের বিয়ে করত। তাদের এ অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে কাসিম খান পর্তুগিজদের হুগলি কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন।
সর্বশেষ বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন।