রিপন সাহার নাটকে ১৮৫৭ সালের বিপ্লবের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বিপ্লবের রয়েছে রাজনৈতিক বেশ কিছু কারণ।
পলাশী যুদ্ধের পর হতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সাম্রাজ্যবাদী নীতি গ্রহণ করে। লর্ড ডালহৌসির স্বত্ববিলোপ নীতির ফলে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত হয়। স্বত্ববিলোপ নীতির কারণে দত্তকপুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হয়। এ নীতি প্রয়োগ করে কর্নাটকের নবাব ও তাঞ্জোরের রাজার দত্তকপুত্র এবং পেশওয়া দ্বিতীয় রাজা বাজিরাওয়ের দত্তক পুত্র নানা সাহেবের বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রিটিশদের অনুগত মিত্র অযোধ্যার নবাবও স্বত্ববিলোপ নীতির কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হন। নাগপুর ও অযোধ্যার রাজপ্রাসাদ লুণ্ঠন করে সকল আসবাবপত্রাদি, মণিমুক্তা অলংকারাদি এমনকি হাতি-ঘোড়া পর্যন্ত লুণ্ঠন করা হয়েছিল। সিন্ধুর আমীরদের প্রতি ইংরেজদের অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ডালহৌসি কর্তৃক মুঘল সম্রাটের উপাধি বিলুপ্তি ইত্যাদি উদ্যোগ ভারতীয় মুসলমানদের ক্ষুব্ধ ও চরম উত্তেজিত করে তোলে। ইংরেজ কর্তৃক গৃহীত অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির ফলে রাজনৈতিক ক্ষমতা হারিয়ে দেশীয় রাজন্যবর্গ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরূপ প্রতিকূল পরিবেশে মহীশূর, হায়দারাবাদ এবং মারাঠা রাষ্ট্রসংঘ একটি ত্রিশক্তি মিত্রসংঘ গঠন করেন।
কিন্তু হেস্টিংসের কূটনীতির ফলে এ মিত্রশক্তি সফল হতে পারেনি। এসব কারণে ভারতীয়দের মনে বিদ্রোহের বিষবাষ্প ফটে উঠে। আর রিপন সাহার নাটকে এ বিদ্রোহের ছবিই ফুটে উঠেছে।