ছবির ব্যক্তটি যে আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন তা হচ্ছে ফরায়েজি আন্দোলন।
ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম জাগরণে ফরায়েজি আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। ফরায়েজি আন্দোলন দ্রুততার সাথে ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলাসমূহে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ফরায়েজি আন্দোলন মুসলমানদের মনে আলোকবর্তিকা ও আলোর দিশারি হিসবে কাজ করেছিল। হাজি শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলনের ফলে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। মুসলমানগণ অনেক ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসে। মুসলমানগণ ফরজ পালনের ওপর জোর দেয়। কবর পূজা, পীর পূজা, গাজী-কালুর প্রশান্তি গাওয়া, পঞ্চপীর, পীরবদর, খাজা-খিজিরের দোহাই দেওয়া, ভেলা ভাসানো, জারিগান গাওয়া, জন্মের সময় ষষ্ঠি পালন করা, মহররমের মাতম করা প্রভৃতি কুসংস্কার অনেকাংশে কমে যায়। ধর্মীয় ক্ষেত্রে এসব পরিবর্তন ছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছিল। হিন্দু জমিদাররা মুসলমানদের ওপর বিভিন্ন অত্যাচারী কর আরোপ করত। বিভিন্ন পূজা-পার্বণে মুসলমানদের ওপর কর ধার্য করত। এছাড়া মুসলমানদের দাড়ি রাখার ওপরও কর ধার্য করত। দুদু মুসলমানদের এসব কর দিতে নিষেধ করেন। এছাড়া ইংরেজ নীলকরদের অবৈধ কর দিতেও নিষেধ করেন। এর ফলে ফরায়েজিদের সাথে নীলকর ও জমিদারদের সংঘর্ষ বাধত। কিন্তু অনেক জমিদার ফরায়েজিদের কাছে পরাজিত হয়ে এসব কর উঠিয়ে দেন এবং মুসলমানদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করেন। দুদু মিয়া ইংরেজ বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তে নিজে একটি বিচারালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সেখানে তিনি কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিচারকার্য সম্পাদন করতেন।
তাই বলা যায়, ফরায়েজি আন্দোলন বাংলার, সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল। মুসলমানরা ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং জমিদারদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেয়েছিল।