উদ্দীপকে উল্লিখিত বঙ্গভঙ্গ ঘটনার ফলে পূর্ব বাংলার রাজনীতি সচেতন জাতি একে স্বাগত জানালেও অন্য গোষ্ঠী অর্থাৎ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়।
এর প্রেক্ষিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। উঁচু তলার মানুষ অর্থাৎ পুঁজিপতি, শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত, জমিদার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের মালিক, রাজনীতিবিদ ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষায় অথবা জাতীয় ঐক্যের মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষের নেতৃবৃন্দ পত্রপত্রিকায়, বক্তৃতামঞ্চে বঙ্গভঙ্গকে 'বাঙালি বিরোধী', 'জাতীয়তাবাদী বিরোধী' এবং 'বঙ্গমাতার অঙ্গচ্ছেদ', 'জাতীয় দুর্যোগ' ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করে। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দু ঘোষ, অশ্বিনী কুমার দত্ত, বালগঙ্গাধর তিলকসহ গোখলের মতো উদারপন্থি নেতারা বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। বঙ্গভঙ্গের বিপক্ষের নেতৃবৃন্দ ব্রিটিশ জিনিসপত্র বর্জন, শোক পালন ও সরকারি অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। এ আহ্বানকে ডি. এল. রায়, রজনীকান্ত সেন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা হয়। পাঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, পুনা, মাদ্রাজ, বোম্বে ও অন্যান্য নগরেও ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের আহ্বানের সাড়া পাওয়া যায়। হিন্দু উদ্যোক্তারা কাপড়ের মিল থেকে শুরু করে দিয়াশলাই কারখানা, কাচ গলিয়ে জিনিসপত্র তৈরির দোকান, লোহা ও ইস্পাতের ঢালাই কারখানা স্থাপন করেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ শুরুর দিকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক ছিল; কিন্তু পরবর্তীতে আন্দোলনটি নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার দিকে মোড় নেয়। অতঃপর বিভিন্ন বিক্ষোভ ও হত্যাযজ্ঞের মুখে ব্রিটিশ সরকার নতি স্বীকার করে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে।
সুতরাং উদ্দীপকের আলোকে আলোচনার প্রেক্ষিতে দেখা যায়, বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়াসমূহ ছিল শক্তিশালী এবং ফলপ্রসূ।