উক্ত নির্বাচনটি হচ্ছে পাকিস্তান আমলের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন। নিম্নে পাঠ্য বইয়ের আলোকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো :প্রথম সাধারণ নির্বাচন : এই নির্বাচনটি ছিল প্রত্যক্ষ ভোটের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল । আঞ্চলিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মূলত আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রাধান্য প্রকাশ পায়। নির্বাচনে পাকিস্তান পিপলস পার্টি যেমন পূর্ব পাকিস্তানের কোন আসন পায়নি একইভাবে আওয়ামীলীগও পশ্চিম পাকিস্তানের কোন আসন পায় নি। এভাবে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যকার জাতিগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যবধানের চিত্রটি আরো স্পষ্ট হয়। বাঙালি স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয়: পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙ্গালীদেরকে ভাষা, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন অধিকারের দিক থেকে দমিয়ে রেখে রেখেছিল। সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির বিজয় তাদের স্বতন্ত্র সত্তাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।আওয়ামী লীগের সুদৃঢ় অবস্থান এই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়। একই সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভ করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয়: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল ৫৪ সালের নির্বাচন, ৬৬ সালের ছয় দফা এবং ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেটি বিকশিত হয়। ৭০ এর নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালির এই জাতীয়তাবাদ রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিকভাবে ভিত্তি পায় এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্বায়ত্তশাসন দাবীর বৈধতা প্রমাণ: পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙ্গালীদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা। ১৯৭০ সালের আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এই দাবির বৈধতার প্রমাণ করে।