উদ্দীপকের চিত্রটি বাঙালির ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ঘটনাকে নির্দেশ করে।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রটি আত্মপ্রকাশ করে। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার ওপর নানা বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। প্রথমেই তারা আঘাত হানে বাঙালির ভাষার ওপর। পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ব বাংলার অধিবাসীদের মাতৃভাষা বাংলা। তাই পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' আন্দোলন শুরু হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই আন্দোলন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্ম দেয়। পূর্ব পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০ শতাংশের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও সংখ্যালঘিষ্ঠ মাত্র ৩.২৭ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে তারা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালি ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ জাতি- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তারা দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সালাম, রফিক, জব্বার ও বরকতের রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলা অর্জিত হয় এবং বিকশিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা। উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত স্থাপনাটি ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই নির্মিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, এ চিত্রের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।