উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের কোন আন্দোলনের মিল আছে-ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায় ১৯৫০ সালে ভারতের বিহার প্রাদেশিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠর ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে ফারসি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে বাঙালিরা আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং ধর্মঘটের ডাক দেয়। আন্দোলনকারীদের ওপর বিহার সরকার নির্বিচারে গুলি চালালে ১১জন ভাষা সৈনিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। উদ্দীপকের এই ঘটনা আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিহার সরকার যেমনভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষাকে বাদ দিয়ে ফারসিকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়, তেমনিভাবে পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়। পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠির এই সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। পূর্ব বাংলার বিক্ষুব্ধ জনতা দেশব্যাপী ধর্মঘট ও হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালিত হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে। নির্ধারিত কর্মসূচি হরতাল পালন করার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তায় মিছিল নিয়ে বের হয় এবং রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে। ছাত্র-জনতা পুলিশের বাধা ভঙ্গ করে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রফিক, বরকতসহ অনেকে নিহত হন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বিহারের ঘটনাটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
HSC Islamic History 2nd paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic History 2nd paper · সৃজনশীল
উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের কোন আন্দোলনের মিল আছে-ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর