উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি আমার পঠিত, ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকের মায়ানমারের জান্তা সরকার রোহিঙ্গাদের সংস্কৃতি অস্বীকার করে তাদের মাতৃভাষা ও বর্ণমালার ক্ষেত্রে আগ্রাসন চালায়। তাদের মাতৃভাষায় শিক্ষাগ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যার সাথে পশ্চিম পাকিস্তান সরকার কর্তৃক বাঙালির ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে সংঘটিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জাতিকে সবদিক দিয়ে শাসন, শোষণ ও বঞ্চিত করতে থাকে। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হলেও মাত্র ৩.২৭% উর্দুভাষী শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন, "উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।" জিন্নাহর এ ভাষণে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা তীব্র আন্দোলন শুরু করে। গঠিত হয় 'তমদ্দুন মজলিস' 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নামে বিভিন্ন সংগঠন। আন্দোলনরত ছাত্র-জনগণ স্লোগান দিতে থাকে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। এভাবে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। বাঙালির তীব্র আন্দোলনের মুখে ভীত মোনায়েম সরকার পূর্ব পাকিস্তানে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে রফিক, শফিক, সালামসহ অনেকে শহিদ হন। এভাবে ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপপরিগ্রহ করে। বাধ্য হয়ে পাকিস্তান সরকার ১৯৫৬ সালের সংবিধানের মাধ্যমে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।