আমার পঠিত উক্ত দাবি তথা ছয় দফা দাবিই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।'
১৯৬৬ সালের ছয় দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। এ ছয় দফাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয় লাভ এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এটি ছিল শোষণের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ছয় দফা দাবির প্রতি সরকার যত কঠোর হতে থাকে বাঙালি জাতি তত বেশি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। গোটা বাঙালি জাতি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যখন পাকিস্তানের শাসন ও শোষণের যাঁতাকলে দিশেহারা, তখন ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালি জাতির জীবনে আশার আলো।
পশ্চিম পাকিস্তানের অধিকর্তর শক্তিশালী আমলা ও বুর্জোয়া শ্রেণির খপ্পর হতে মুক্তি পাওয়াই ছিল বাঙালিদের অন্যতম দাবি। শেখ মুজিবুর রহমান নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গোটা বাঙালি সত্তার স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে বলীয়ান হয়ে উঠেন এবং ছয় দফা কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবির আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছয় দফার মাধ্যমে বলিষ্ঠ কণ্ঠে স্বায়ত্তশাসনের দাবি করা হয় এবং ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে। এ দাবির মধ্যেই বাঙালির স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। তাই গুরুত্বের বিচারে ছয়দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনা কার্টা বলা হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, বাঙালির ছয় দফা দাবির মধ্যে বাংলাদেশের মুক্তির ঘোষণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল এটি যথার্থই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথকে ত্বরান্বিত করেছিল।