উদ্দীপকের আন্দোলন তথা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সূচনালগ্ন। মন্তব্যটি যথার্থ।
ছাত্র তথা আপামর বাংলার আন্দোলনের ইতিহাসে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান একটি গৌরবজনক ও সোনালি অধ্যায়। এ আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি দেশের জন্য অসীম ত্যাগ ও স্বদেশপ্রেমের অনন্য নজির স্থাপন করে। এ আন্দোলনের ফলে আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে রাজনীতি থেকে চির বিদায় গ্রহণ করেন। ছয় দফা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু আগরতলা মামলার ১নং আসামি হলে তার জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। এ আন্দোলন শুধু শহুরে মানুষের আন্দোলন ছিল না বরং এ আন্দোলনে কৃষক-শ্রমিক, জেলে, তাঁতি, মাঝি, ছাত্রসমাজসহ সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। ফলে বাঙালি জাতি বুঝতে সক্ষম হয় ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেকোনো আন্দোলন করলে তা সফল হতে বাধ্য। পরবর্তীতে বাঙালিরা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে সরকার বাধ্য হয়ে ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের। তারিখ ঘোষণা করে। আর এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ করে। তবে সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকার করলে ৬৯-এর প্রেরণায় বাঙালি জাতি আবারও ১৯৭১ সালে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা অর্জন করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উনসত্তরের গণআন্দোলন ব্যাপকতা ও গভীরতায় পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। এটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সূচনালগ্ন।